পারভেজ আহমদ ::: আধ্যাত্মিক নগরী ও দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সিলেটে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে ভিক্ষুকের উপদ্রব। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বিপণিবিতান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিক্ষুকদের ব্যাপক উপস্থিতি এখন নিত্যদিনের দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অতিরিক্ত পীড়াপীড়ি ও জোরাজুরিতে বিরক্ত ও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পর্যটকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর বন্দরবাজার, ক্বীন ব্রিজ এলাকা, সুরমা মার্কেট পয়েন্ট, চৌহাট্টা, শিবগঞ্জ, আম্বরখানা, শাহজালাল উপশহর ও সোবহানীঘাটসহ বিভিন্ন ব্যস্ততম এলাকায় দলবদ্ধভাবে অবস্থান করছেন ভিক্ষুকরা। বিশেষ করে যানজটপূর্ণ মোড় ও জনসমাগমস্থলগুলোতে তাদের তৎপরতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এছাড়া, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন এবং হুমায়ূন রশীদ চত্বরসহ যাত্রী ও পর্যটকদের প্রধান প্রবেশপথগুলোতেও দিন-রাত ভিক্ষুকদের বিচরণ দেখা যায়। ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার এলাকাকে কেন্দ্র করেও গড়ে উঠেছে ভিক্ষাবৃত্তিনির্ভর একটি সক্রিয় চক্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিক্ষুকদের একটি বড় অংশ শারীরিকভাবে সুস্থ ও কর্মক্ষম। তাদের মধ্যে অনেক যুবক-যুবতী এবং সক্ষম নারী-পুরুষও রয়েছেন, যারা কোনো ধরনের উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত না হয়ে ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সচেতন মহলের মতে, সহজে অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকায় কিছু অসাধু চক্র এই পেশাকে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করেছে।
নগরবাসীর দাবি, ভিক্ষাবৃত্তির আড়ালে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ভিক্ষুকদের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। ফলে বিষয়টি শুধু সামাজিক সমস্যা নয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, সিলেটের সৌন্দর্য, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ এবং নগরীর ইতিবাচক ভাবমূর্তি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। একই সঙ্গে প্রকৃত অসহায় ও দুস্থ মানুষের পুনর্বাসন এবং সংঘবদ্ধ ভিক্ষুক চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply